খুঁজুন
মঙ্গলবার, ১৬ই এপ্রিল, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, ৩রা বৈশাখ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
আজঃ মঙ্গলবার, ১৬ই এপ্রিল, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ
শিরোনাম:
যাকাতের নিসাব ও বন্টনের খাত কুকি-চিন ইস্যু সরকারের নাটক : মঈন খান কেন প্রতিদিন আপনার ভিটামিন সি গ্রহণ করা উচিত জেনে নিন প্রকাশ হলো বাংলাদেশ-ভারত টি-টোয়েন্টি সিরিজের সূচি গুলি করে হত্যার পর আবারও বাংলাদেশির মরদেহ নিয়ে গেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী কোরআন পোড়ানো সেই ব্যক্তিকে পাওয়া গেছে মৃত অবস্থায় সকল বাধা ও শৃঙ্খল থেকে মুক্তি পেতে হলে শক্তভাবে দাঁড়াতে হবে বলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান বেগম খালেদা জিয়াকে সরকার টার্গেট করেছে বেগম খালেদা জিয়াকে সিসিইউতে নেওয়া হয়েছে বাগেরহাটের কচুয়ায় ১০ টাকায় ঈদ সামগ্রী মার্কিনিদের নির্দেশেই বিএনপি আগুন দিয়ে গাড়ি পুড়িয়েছে নাটোরে নবম শ্রেণীর শিক্ষার্থীকে কুপিয়ে হত্যা চট্টগ্রামের পতেঙ্গায় ফিশিং বোটে আগুন বরিশালে মসজিদে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে ভারতে একসাথে নিষিদ্ধ হলো ১৩ হাজার মাদ্রাসা গো-মাতার রক্ষকরাই যখন ভক্ষক আপনার স্মার্টফোনটিকে হ্যাকারদের হাত থেকে রক্ষা করতে হলে কি কি পদ্ধতি অবলম্বন করতে পারেন ইন্দোনেশিয়ায় নৌকাডুবির ঘটনায় অন্তত ৬৯ রোহিঙ্গা শরণার্থীকে উদ্ধার করা হয়েছে ভারতে নির্মাণাধীন সেতু ধসে নিহত ১ আল্লাহর দেয়া ফিতরাতকে ধ্বংস করার নানা আয়োজন চলছে বললেন মিজানুর রহমান আজহারী মাওলানা তারেক জামিলের সড়ক দুর্ঘটনার মিথ্যা খবর প্রচার করা হচ্ছে সোশ্যাল মিডিয়াতে বাংলাদেশের জোরদার হচ্ছে ভারতীয় পণ্য বর্জনের আন্দোলন নিজের ভারতীয় চাদর জনসম্মুখে ছুড়ে ফেলে ভারতীয় পণ্য বর্জনের আনুষ্ঠানিক সূচনা করলেন রুহুল কবির রিজভী ভোলার একটি স্কুলে গণহারে অসুস্থ হয়ে পড়ল শিক্ষার্থীরা

সকল বাধা ও শৃঙ্খল থেকে মুক্তি পেতে হলে শক্তভাবে দাঁড়াতে হবে বলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ৩১ মার্চ, ২০২৪, ১:২৯ অপরাহ্ন
সকল বাধা ও শৃঙ্খল থেকে মুক্তি পেতে হলে শক্তভাবে দাঁড়াতে হবে  বলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান

ইফতার মাহফিল এর ছবি

6 মিনিটে পড়ুন

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান বলেন, হাজারো প্রতিকূলতা সত্ত্বেও জামায়াতের উদ্যোগে ইফতার মাহফিল আয়োজন করতে পেরে আমরা আল্লাহর শুকরিয়া জানাচ্ছি। আমাদের দাওয়াতে এ ইফতার মাহফিলে যারা শামিল হয়েছেন, আমি তাদের সবাইকে মোবারকবাদ জানাচ্ছি এবং তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি।

তিনি ৩০ মার্চ জামায়াতের উদ্যোগে প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেল, ঢাকা-এর বলরুমে আয়োজিত ইফতার মাহফিলে বক্তব্য রাখছিলেন।

ডা. শফিকুর রহমান আরও বলেন, আল্লাহ পাক এ পবিত্র রমজান মাসে কুরআন নাজিল করেছেন। এ মাস অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ মাস। এ মাসে রয়েছে বরকতময় লাইলাতুল কদর। মহান রব পবিত্র কুরআনে প্রথমেই নাজিল করলেন ‘পড় তোমার সৃষ্টিকর্তা প্রভুর নামে।’ মানুষের জ্ঞান অর্জনের জন্যই আল্লাহ এ আয়াত নাজিল করেছেন। আল্লাহ মানুষের জন্য তার হেদায়াত ও নেয়ামত পূর্ণ করে দিলেন। এ মাসেই বদর যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছিল। রাসূল সা. ছিলেন মানবজাতির জন্য রহমাতুল্লিল আলামীন। রাসূল সা. মক্কার লোকদের অত্যাচারে মদিনায় হিজরত করলেন এবং হিজরতের ৭ বছর পরে তিনি বিজয়ী হয়ে মক্কায় প্রবেশ করলেন। তিনি হলেন শেষ নবি, তার পরে আর কোনো নবী আসবে না।

বাংলাদেশের যেসব মানুষ, মানুষের অধিকার আদায়ের আন্দোলন করে শহীদ হয়েছেন, আহত হয়ে পঙ্গু হয়েছেন, জেলে গিয়েছেন, তাদের সকলের ত্যাগ আল্লাহ পাক কবুল করুন এবং সবাইকে উপযুক্ত জাযা দান করুন। মুক্তি অর্জন করতে হলে অবশ্যই সংগ্রাম করতে হবে। বিনা সংগ্রামে কখনো মুক্তি আসে না। সকল বাধা ও শৃঙ্খল থেকে মুক্তি পেতে হলে শক্তভাবে দাঁড়াতে হবে।

আমরা সকলের মঙ্গল কামনা করি। সকল রকম হঠকারিতা ও বিশৃঙ্খলা পরিহার করতে হবে। পায়ে পারা দিয়ে কেউ ঝগড়া করতে আসলে অবশ্যই তার জবাব দিতে হবে।

তিনি বলেন, সরকারি দলের লোকদের যদি রাজনীতি করার অধিকার থাকে, তাহলে দেশের প্রতিটি নাগরিকেরও রাজনীতি করার অধিকার আছে। শুধু আল্লাহকে ভয় করতে হবে এবং দোয়া করতে হবে আল্লাহ যেন আমাদের সকল বন্ধন থেকে মুক্ত করে দেন। ইফতারের পূর্ব মূহূর্তে তিনি মাহফিলে উপস্থিত সবাইকে নিয়ে আল্লাহর কাছে দোয়া করেন, তিনি যেন আমাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধ করে সকল বাধা-বন্ধন থেকে মুক্তির ব্যবস্থা করেন। আমাদের দেশের আলেম সমাজ যেন আমাদের দিক-নির্দেশনা দিতে পারেন সেজন্য আল্লাহ যেন তাদের যোগ্যতা বাড়িয়ে দেন। আল্লাহ আমাদের সবাইকে স্বাধীনতার সুফল ভোগ করার তাওফিক দান করুন। আজকে ফিলিস্তিনি মুসলমানদের ওপর যে জুলুন-নিপীড়ন চলছে, আল্লাহ যেন তা থেকে তাদেরকে মুক্তি দেন এবং তাদের বিজয় দান করেন। তিনি দেশ, জাতি এবং মুসলিম উম্মাহর সার্বিক কল্যাণ কামনা করে মোনাজাত শেষ করেন।

জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়ার বিভাগের সেক্রেটারি জনাব মতিউর রহমান আকন্দের সঞ্চালনায় এ মাহফিলে আগত মেহমানদের স্বাগত জানিয়ে বক্তব্য রাখেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার।

এ ইফতার মাহফিলে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় সংসদের সাবেক স্পীকার ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার, সাবেক মন্ত্রী জনাব আলতাফ হোসেন চৌধুরী, সাবেক মন্ত্রী জনাব মির্জা আব্বাস, জনাব আবদুল আউয়াল মিন্টু, এডভোকেট জয়নাল আবেদীন, এড. মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, জনাব মুজিবুর রহমান সরোয়ার, জনাব আবদুস সালাম, জনাব জহিরুদ্দিন মুহাম্মাদ স্বপন, জনাব আতাউর রহমান ঢালী, জনাব শহিদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, এড. মাসুদ উদ্দিন তালুকদার, এলডিপি-এর সভাপতি ড. কর্নেল অব. অলি আহমাদ, জাগপার সহসভাপতি রাশেদ প্রধান, লেবার পার্টির সভাপতি ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলনের চেয়ারম্যান ববি হাজ্জাজ, এবি পার্টির নেতা ব্যারিস্টার যুবাইর, গণঅধিকার পরিষদের সদস্য সচিব ও ডাকসুর সাবেক ভিপি জনাব নূরুল হক নূর, এসএম শাহজাহান কবির, দৈনিক নয়াদিগন্তের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সালাহ উদ্দিন বাবর, উপ-সম্পাদক (বার্তা) মাসুমুর রহমান খলিলী, সাংবাদিক নেতৃবৃন্দের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিএফইউজের সভাপতি রুহুল আমিন গাজী, মহাসচিব কাদের গনি চৌধুরী, সাবেক মহাসচিব এমএ আজিজ, জাতীয় প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি কামাল উদ্দিন সবুজ, সাবেক সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আবদাল আহমাদ, ইলিয়াস খান, ন‚রুল আমিন রোকন, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি মো. শহিদুল ইসলাম, সাবেক সভাপতি এলাহী নেওয়াজ খান, সাধারণ সম্পাদক খুরশীদ আলম, সাবেক সাধারণ বাকের হোসাইন, সরদার ফরিদ আহমদ, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাবেক সভাপতি মুরসালিন নোমানী প্রমুখ।

দেশের অন্যতম শীর্ষ আলেম বর্ষিয়ান আলেমে দ্বীন জামিয়া ইমদাদিয়ার মহাপরিচালক এবং ইসলামিক কানুন বাস্তবায়ন পরিষদের আমির মাওলানা আবু তাহের জিহাদী আল কাসেমী, বাংলাদেশ নিজামে ইসলাম পার্টির আমির মাওলানা সরওয়ার কামাল আজিজী, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও হেফাজতে ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদী, গণসেবা আন্দোলনের আমির মুফতি ফখরুল ইসলাম, মুফতি বিন ইয়ামিন (মহাসচিব গণসেবা আন্দোলন), খেলাফত আন্দোলনের নায়েবে আমির মাওলানা আহমাদ আলী কাসেমী, মুফতি ফয়জুল্লাহ আশরাফি, মহাসচিব ইসলামিক কানুন বাস্তবায়ন পরিষদ, বাংলাদেশ ইসলামিক দাওয়া সেন্টারের পরিচালক মুফতি নুরুজ্জামান নোমানী, জমিয়তে হিজবুল্লার কেন্দ্রীয় মুরুব্বী অধ্যক্ষ ডক্টর মাওলানা মুহিউদ্দিন, জাতীয় খতিব পরিষদের চেয়ারম্যান মুফতি মাসুদুর রহমান জাহেদী, ছরছিনা দরবার শরীফের পীর মাওলানা শাহ আরিফ বিল্লাহ সিদ্দিকী, মিরেশ্বরাই দরবার শরীফের পীর মাওলানা আব্দুল মমিন নাসেরী, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক স্টাডি বিভাগের চেয়ারম্যান ড. মাওলানা রফিকুল রহমান মাদানী।

জামায়াত নেতৃবৃন্দের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর ও সাবেক এমপি ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মোঃ তাহের, নায়েবে আমীর ও সাবেক এমপি মাওলানা আনম শামসুল ইসলাম, সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান, সাবেক এমপি জনাব হামিদুর রহমান আযাদ, মাওলানা আবদুল হালিম, এ্যাডভোকেট মোয়ায্যম হোসাইন হেলাল, মাওলানা মুহাম্মাদ শাহজাহান ও এডভোকেট এহসানুল মাহবুব যোবায়ের, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য জনাব আব্দুর রব, জনাব সাইফুল আলম খান মিলন, অধ্যক্ষ মুহাম্মাদ শাহাবুদ্দিন, অধ্যক্ষ মুহাম্মাদ ইজ্জত উল্লাহ, জনাব মুবারক হোসাইন, জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমীর জনাব নূরুল ইসলাম বুলবুল ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমীর জনাব মুহাম্মাদ সেলিম উদ্দিন, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য এড. জসিম উদ্দিন সরকার, এডভোকেট মশিউল আলম, মাওলানা আবদুল মান্নান, অধ্যক্ষ মাওলানা যাইনুল আবেদীন, অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম, ড. মুহাম্মদ কেরামত আলী, ড. মাওলানা খলিলুর রহমান মাদানী, কাজী দ্বীন মুহাম্মাদ, ঢাকা দক্ষিণের সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের সেক্রেটারি ড. মুহাম্মদ রেজাউল করিম। অফিস সেক্রেটারি মাওলানা আব্দুস সাত্তার। ইসলামী ছাত্রশিবিরের সভাপতি মঞ্জুরুল ইসলাম।

সাবেক বিচারপতি ফরিদ, এড. আবদুল করিম, এড. মাইনুদ্দিন, বাংলাদেশ আদর্শ শিক্ষক ফেডারেশনের মহাসচিব অধ্যাপক ফজলুল করিম, অধ্যাপক আবদুর রব, অধ্যাপক আবদুল লতিফ মাসুম, দৈনিক সংগ্রামের এমডি জনাব নূরুল আমিন, মেজর জেনারেল অব. আলমাস আমিন, কর্নেল অব. আনোয়ার হোসেন, শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সেক্রেটারি অধ্যাপক মাওলানা হারুনুর রশিদ খান।

মহাগ্রন্থ আল কুরআন থেকে তেলাওয়াতের মাধ্যমে ইফতার মাহফিল শুরু হয়। কালামে হাকিম থেকে তেলাওয়াত করবেন ক্বারী বেলাল হোসাইন।

 

এই সংবাদের সকল তথ্য এবং ছবি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ওয়েবসাইট থেকে নেওয়া

যাকাতের নিসাব ও বন্টনের খাত

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৯ এপ্রিল, ২০২৪, ১:২৭ অপরাহ্ন
যাকাতের নিসাব ও বন্টনের খাত

ছবিঃ freepik

5 মিনিটে পড়ুন

যাকাত زكاة এটি একটি আরবি শব্দ যার অর্থ ‎‎ “পরিশুদ্ধকরণ, পবিত্র করা, বৃদ্ধি পাওয়া, বরকত হওয়া ইত্যাদি ”।

যেমন কোরআনে বর্ণিত রয়েছে:

والزكاة بمعنى: المدح، قال الله تعالى: فلا تزكوا أنفسكم

যাকাত এর পরিভাষিক অর্থ:

নিজ অর্জিত ধন-সম্পদ থেকে আল্লাহ কর্তৃক সুনির্দিষ্ট ও ফরজকৃত অংশ দেওয়া। যেমন ফুকাহায়ে কেরাম বলেন:

والزكاة في اصطلاح علماء الفقه هي: حصة من المال يجب دفعه للمستحقين

أو: الجزء المخصص للفقير والمحتاج من أموال الغني أو

هي: تمليك المال من فقير مسلم غير هاشمي، ولا مولاه بشرط قطع المنفعة عن المملك من كل وجه لله تعالى

হাশিমী বংশের লোক ব্যতীত কোন গরিব মুসলমানকে মালের মালিক বানিয়ে দেওয়া। এবং মনিব গোলাম থেকে কোন উপকার নেওয়ার শর্ত করা ব্যতীত। একমাত্র আল্লাহকে রাজী-খুশী করার উদ্দেশ্যে।

যাকাত কী?

ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভের মধ্যে যাকাত অন্যতম।

ইসলামের নবী হযরত মোহাম্মদ ( সাঃ ) যখন ৬২২ খ্রিষ্টাব্দে মদিনায় গিয়ে ইসলামী রাষ্ট্র ব্যবস্থা চালু করেন, তখন সে রাষ্ট্রে যাকাত ব্যবস্থা চালু হয়।

পবিত্র ধর্মগ্রন্থ কোরআন শরীফে যাকাত সম্পর্কে নির্দেশনা দেয়া আছে।

কাদের ওপর যাকাত ফরয?

স্বাধীন, পূর্ণবয়স্ক মুসলিম নর-নারীর কাছে নিসাব পরিমাণ সম্পদ থাকলে কতিপয় শর্তসাপেক্ষে তার উপর যাকাত ফরয হয়ে থাকে।

         যেমন:

১. সম্পদের উপর পূর্ণ মালিকানা
সম্পদের উপর যাকাত ওয়াজিব হওয়ার জন্য সম্পদের মালিকানা সুনির্দিষ্ট হওয়া আবশ্যক। অর্থাৎ সম্পদ, মালিকের অধিকারে থাকা, সম্পদের উপর অন্যের অধিকার বা মালিকানা না থাকা এবং নিজের ইচ্ছামতো সম্পদ ভোগ ও ব্যবহার করার পূর্ণ অধিকার থাকা। যেসকল সম্পদের মালিকানা সুসস্পষ্ট নয়, সেসকল সম্পদের কোনো যাকাত নেই, যেমন: সরকারি মালিকানাধীন সম্পদ। অনুরূপভাবে জনকল্যাণমূলক কাজের জন্য ওয়ক্‌ফকৃত সম্পদের উপরেও যাকাত ধার্য হবে না। তবে ওয়াক্‌ফ যদি কোনো ব্যক্তি বা গোত্রের জন্য হয়, তবে তার উপর যাকাত দিতে হবে।
২. সম্পদ উৎপাদনক্ষম হওয়া
যাকাতের জন্য সম্পদকে অবশ্যই উৎপাদনক্ষম, প্রবৃদ্ধিশীল হতে হবে, অর্থাৎ সম্পদ বৃদ্ধি পাবার যোগ্যতাই যথেষ্ট। যেমন: গরু, মহিষ, ব্যবসায়ের মাল, নগদ অর্থ ব্যবসায়িক উদ্দেশ্যে ক্রীত যন্ত্রপাতি ইত্যাদি মালামাল বর্ধনশীল। অর্থাৎ যেসকল মালামাল নিজের প্রবৃদ্ধি সাধনে সক্ষম নয়, সেসবের উপর যাকাত ধার্য হবে না, যেমন: ব্যক্তিগত ব্যবহারের মালামাল, চলাচলের বাহন ইত্যাদি।
৩. নিসাব পরিমাণ সম্পদ
যাকাত ফরয হওয়ার তৃতীয় শর্ত হচ্ছে শরীয়ত নির্ধারিত সীমাতিরিক্ত সম্পদ থাকা। সাধারণ ৫২.৫ তোলা রূপা বা ৭.৫ তোলা স্বর্ণ বা উভয়টি মিলে ৫২.৫ তোলা রূপার সমমূল্যের সম্পদ থাকলে সে সম্পদের যাকাত দিতে হয়। পশুর ক্ষেত্রে এই পরিমাণ বিভিন্ন (বিস্তারিত: ‘যাকাত প্রদানের নিয়ম’ দ্রষ্টব্য)।
৪. মৌলিক প্রয়োজনাতিরিক্ত সম্পদ থাকা
সারা বছরের মৌলিক প্রয়োজন মিটিয়ে যে সম্পদ উদ্ধৃত থাকবে, শুধুমাত্র তার উপরই যাকাত ফরয হবে।
এপ্রসঙ্গে আল-কুরআনে উল্লেখ রয়েছে: লোকজন আপনার নিকট (মুহাম্মদের  [সাঃ]  নিকট) জানতে চায়, তারা আল্লাহর পথে কী ব্যয় করবে? বলুন, যা প্রয়োজনের অতিরিক্ত। আল্লাহ এভাবেই তোমাদের জন্য সুস্পষ্ট বিধান বলে দেন।

মুহাম্মদ সাঃ এর সহচর আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস বলেছেন,

“অতিরিক্ত বলতে পরিবারের ব্যয় বহনের পর যা অতিরিক্ত বা অবশিষ্ট থাকে তাকে বুঝায়”

জনাব ইউসুফ আল কারযাভী’র মতে স্ত্রী, পুত্র, পরিজন, ও পিতামাতা এবং নিকটাত্মীয়দের ভরণ-পোষণও মৌলিক প্রয়োজনের অন্তর্ভুক্ত।

৫. ঋণমুক্ততা
নিসাব পরিমাণ সম্পদ হলেও ব্যক্তির ঋণমুক্ততা, যাকাত ওয়াজিব হওয়ার অন্যতম শর্ত। যদি সম্পদের মালিক এত পরিমাণ ঋণগ্রস্থ হন যা, নিসাব পরিমাণ সম্পদও মিটাতে অক্ষম বা নিসাব পরিমাণ সম্পদ তার চেয়ে কম হয়, তার উপর যাকাত ফরয হবে না। ঋণ পরিশোধের পর নিসাব পরিমাণ সম্পদ থাকলেই কেবল যাকাত ওয়াজিব হয়। তবে এক্ষেত্রে দ্বিতীয় মতটি হলো: যে ঋণ কিস্তিতে পরিশোধ করতে হয় সে ঋণের ক্ষেত্রে যেবছর যে পরিমাণ ঋণ পরিশোধ করতে হয়, সেবছর সে পরিমাণ ঋণ বাদ দিয়ে বাকিটুকুর উপর যাকাত দিতে হয়। কিন্তু ঋণ বাবদ যাকাত অব্যাহতি নেয়ার পর অবশ্যই ঋণ পরিশোধ করতে হবে। অন্যথায় সে সম্পদের উপর যাকাত দিতে হবে।
৬. সম্পদ এক বছর আয়ত্তাধীন থাকা
নিসাব পরিমাণ স্বীয় সম্পদ ১ বছর নিজ আয়ত্তাধীন থাকা যাকাত ওয়াজিব হওয়ার পূর্বশর্ত।তবে কৃষিজাত ফসল, খনিজ সম্পদ ইত্যাদির যাকাত (উশর) প্রতিবার ফসল তোলার সময়ই দিতে হবে। ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানে ও কোম্পানীর ক্ষেত্রে বছর শেষে উদ্বর্তপত্রে (Balance Sheet) বর্ণিত সম্পদ ও দায়-দেনা অনুসারে যাকাতের পরিমাণ নির্ধারিত হবে।

যাকাত বণ্টনের খাতসমূহ 

পবিত্র কুরআনের সূরা আত-তাওবার ৬০ নাম্বার আয়াতে যাকাত বণ্টনে আটটি খাত আল্লাহ তায়ালা নির্ধারন করেছেন। । এই খাতগুলো সরাসরি কুরআন দ্বারা নির্দিষ্ট এবং যেহেতু তা আল্লাহর নির্দেশ, তাই এর বাইরে যাকাত বণ্টন করলে তা ইসলামী শরিয়তসম্মত হয় না।

  1. ফকির (যার কিছুই নেই)
  2. মিসকীন(যার নেসাব পরিমাণ সম্পদ নেই)
  3. যাকাত আদায়ে নিযুক্ত কর্মচারী (যার অন্য জীবিকা নেই)
  4. নওমুসলিমদের(আর্থিক সংকটে থাকলে)
  5. ক্রীতদাস(মুক্তির উদ্দেশ্যে)
  6. ধনী সম্পদশালী ব্যক্তি যার সম্পদের তুলনায় ঋণ বেশি
  7. (স্বদেশে ধনী হলেও বিদেশে) আল্লাহর পথে জিহাদে রত ব্যক্তি
  8. মুসাফির (যিনি ভ্রমণকালে অভাবে পতিত)

হাদিসমতে, এগুলো ফরয সাদকাহের খাত, এবং নফল সাদকাহ এই আট খাতেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং এর পরিসর আরো প্রশস্ত।

“এই তথ্যগুলি অনলাইন থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে কোন ভুল থাকলে ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন এবং কমেন্টে লিখে জানাবেন ভুল হয়েছে ।”

কুকি-চিন ইস্যু সরকারের নাটক : মঈন খান

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৯ এপ্রিল, ২০২৪, ১২:৪৬ অপরাহ্ন
কুকি-চিন ইস্যু সরকারের নাটক : মঈন খান

ফাইল ছবি

1 মিনিটে পড়ুন

সরকারের ব্যর্থতা থেকে জনগণের দৃষ্টি সরাতে পাহাড় অশান্ত করে তোলা হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান। এটি ক্ষমতাসীনদের নতুন খেলা বলে দাবি করেন তিনি।

মঙ্গলবার (৯ এপ্রিল) সদ্য কারামুক্ত বিএনপির ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক রফিকুল ইসলাম জামালের সঙ্গে সাক্ষাত শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।

বান্দরবানে চলমান ঘটনা ইস্যুতে ড. আব্দুল মঈন খান বলেন, সরকার নতুন খেলায় মেতেছে। সরকার নিজের ব্যর্থতা থেকে জনগণের দৃষ্টি সরাতে পাহাড় অশান্ত করে তুলেছে।

আইএসের (ইসলামিক স্টেট) মতো কুকি চিনের নাটক সাজিয়েছেন ক্ষমতাসীনরা বলে অভিযোগ করেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির ড. আব্দুল মঈন খান।
 
ড. আব্দুল মঈন খান আরও বলেন, বিএনপি গণতন্ত্রকে বাধাগ্রস্ত করেছে- ক্ষমতাসীনদের এমন অভিযোগ মিথ্যাচার। বিএনপি নয়, বরং আওয়ামী লীগই গণতন্ত্রকে জিম্মি করে রেখেছে।

কেন প্রতিদিন আপনার ভিটামিন সি গ্রহণ করা উচিত জেনে নিন

অনলাইন ডেস্ক ( স্বাস্থ্য বিষয়ক )
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৯ এপ্রিল, ২০২৪, ১২:২০ অপরাহ্ন
কেন প্রতিদিন আপনার ভিটামিন সি গ্রহণ করা উচিত জেনে নিন

Food containing vitamin C. Healthy eating. Top view . iStockCredit: yulka3ice

3 মিনিটে পড়ুন

ভিটামিন-সি যার রাসায়নিক নাম অ্যাসকরবিক অ্যাসিড। এটি একটি জৈব অম্ল, যা শাকসবজি, ফল প্রভৃতিতে পাওয়া যায়। যার রাসায়নিক সংকেত C6H8O6 এটি সাদা দানাদার পদার্থ। মানুষসহ বিভিন্ন প্রাণী ও উদ্ভিদের জন্য একটি প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান। ‘ভিটামিন-সি’ দ্বারা মূলত এর একাধিক ভিটামারকে বোঝানো হয় যেগুলো প্রাণী ও উদ্ভিদের দেহে ভিটামিন-সি এর মত কাজ করে। এসব ভিটামারের মধ্যে অ্যাসকরবিক অ্যাসিডসহ এর বিভিন্ন লবণ ও ডিহাইড্রোঅ্যাসকরবিক অ্যাসিডের  মত কিছু জারিত (oxidized) যৌগ বিদ্যমান। অ্যাসকরবেট বা অ্যাসকরবিক অ্যাসিড, এ দুয়ের যেকোন একটি দেহে প্রবেশ করলে প্রাকৃতিকভাবে দুটি পদার্থই প্রস্তুত হয়। এর কারণ, এরা pH এর মানের তারতম্যের সাথে একটি থেকে আরেকটিতে রূপান্তরিত হতে পারে। এটি কমপক্ষে আট রকমের উৎসেচক সংশ্লেষণ বিক্রিয়ায় কো-ফ্যাক্টর হিসেবে কাজ করে। উদাহরণস্বরূপ, এটি বিভিন্ন কোলাজেন সংশ্লেষণ বিক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে যেগুলোর অভাবে স্কার্ভি রোগের উপসর্গসমূহ দেখা দেয়।প্রাণীদের দেহে এই বিক্রিয়াসমূহ প্রধাণত ক্ষত-পূরণে ও কৈশিক রক্তনালী থেকে রক্তক্ষরণ বন্ধে প্রয়োজনীয় ভূমিকা পালন করে। অ্যাসকরবেট জারণজনিত পীড়ন (oxidative stress) রোধে একটি অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে

ভিটামিন সি এর উৎস

ভিটামিন সি সমৃদ্ধ খাদ্য কাঁচা খেতে হয়, কারণ রান্না বা গরম করলে এদের পুষ্টিগুণ এবং ভিটামিন সি’র পরিমাণ হ্রাস পায়। একই ভাবে, দীর্ঘ দিন এদের মজুদ করে রাখা অথবা সূর্যালোক লাগানো উচিৎ নয়। এই ফল এবং সবজিগুলি তাজা এবং রান্না না করা অবস্থায় ধুয়ে নিয়ে খাওয়া সবচেয়ে ভাল।

  • কমলা, লেবু, মিষ্টি লেবু, আঙুরের মত সাইট্রাস ফল ।
  • স্ট্রবেরি, গুজবেরি, ব্লুবেরি, রাস্পবেরী এবং ক্র্যানবেরীর মত বেরি ।
  • ফুটি এবং তরমুজ ও খরমুজ ।
  • আনারস, পেয়ারা , আম, পেঁপে ।
  • ব্রোকলি, লাল মরিচ, সবুজ মরিচ এবং ফুলকপির মত সবজি, টমেটো ।
  • সবুজ শাক, পালং, বাঁধাকপি এবং শালগম ।
  • মিষ্টি এবং সাদা আলু ।
  • কিছু প্যাকেজ খাবার যেমন ডালে ভিটামিন সি থাকে ।
  • এছাড়াও ক্যাপসুল, ট্যাবলেট এবং কৃত্রিম পরিপূরক হিসাবে ভিটামিন সি পাওয়া যায়।

ভিটামিন সি-র ঘাটতি হলে যেসব সমস্যা হয় ।

১. যাদের শরীরে ভিটামিন-সি-এর অভাব রয়েছে, তারা খুব সহজে ক্লান্ত হয়ে পড়েন। শরীরে শক্তি কমে যায়, অবসন্ন হয়ে পড়েন।

২. শরীরে ভিটামিন-সি-এর ঘাটতি হলে বিরক্তিভাব দেখা দেয়। মেজাজ খিটখিটে হয়ে যায়।

৩. যাদের শরীরে ভিটামিন-সি-এর ঘাটতি হয়, তাদের হঠাৎ করে ওজন কমে যেতে পারে।

৪. ভিটামিন-সি-এর অভাব হলে গিঁটে ব্যথা বা পেশিতে ব্যথার সমস্যা হয়।

৫. ভিটামিন-সি-এর অভাব হলে দেহে কালশিটে দাগ পড়ে।

৬. ভিটামিন-সি দাঁত ও মাড়ির স্বাস্থ্যকে ভালো রাখে। এর ঘাটতি দেখা দিলে এসব অংশে সমস্যা হতে পারে।

৭. ত্বক ও চুল শুষ্ক হয়ে যাওয়াও ভিটামিন-সি-এর ঘাটতির লক্ষণ।

৮. ভিটামিন-সি-এর ঘাটতি হলে শরীরে রোগ প্রতিরোধক্ষমতা কমে যায়।

ভিটামিন সি -এর দৈনিক চাহিদা

ব্যক্তিগত উচ্চতা, ওজন এবং অন্যান্য বিষয়ের উপরে নির্ভর করে ভিটামিন সি  এর পরিমাণ পরিবর্তিত হতে পারে। তবে, মহিলাদের প্রতিদিন ৭৫ মিলিগ্রাম ভিটামিন সি সেবন করা উচিত, এবং, পুরুষদের পক্ষে পরিমাণটা ৯০ মিলিগ্রাম।মহিলাদের জন্য উপরোক্ত পরিমাণ ছাড়াও গর্ভবতী এবং স্তন্যদায়ী মা’দের অতিরিক্ত ভিটামিন সি দরকার। গর্ভবতী মহিলাদের জন্য ভিটামিন সি’র প্রয়োজনীয় দৈনিক মাত্রা 85 মিলিগ্রাম। স্তন্যদায়ী মা’দের 125 মিলিগ্রাম ভিটামিন সি গ্রহণ করা উচিত ।

ভিটামিন সি একটি প্রাকৃতিক উপাদান যা মানুষের স্বাস্থ্য এবং স্বাস্থ্যের জন্য বিভিন্ন উপকারিতা দেয়। এটি বিভিন্ন ধরনের রোগের জন্য একটি প্রাকৃতিক প্রতিরোধক যা মানুষের স্বাস্থ্য এবং সংক্রামক রোগ থেকে রক্ষা করে।